ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশজুড়ে নানা অস্থিরতা ও ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপড়েনের মধ্যেও সাতক্ষীরার ভোমরা শুল্ক স্টেশন দিয়ে রাজস্ব আহরণ বেড়েছে। গত ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসের (জুলাই-এপ্রিল) তুলনায় চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ে রাজস্ব আহরণ বেড়েছে ১০৩ কোটি টাকার ওপরে। তবে ব্যবসায়ী নেতাদের দাবি, ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে সবধরনের পণ্য আমদানির সুযোগ পেলে রাজস্ব আহরণ আরো কয়েক গুণ বেশি হতো। তারা অভিযোগ করেন, এ বন্দর দিয়ে গুঁড়ো দুধ ব্যতীত সব ধরনের বৈধ পণ্য আমদানির অনুমতি রয়েছে। অথচ ব্যবসায়ীরা তাদের চাহিদা অনুযায়ী সব ধরনের পণ্য আনতে পারছেন না।
ভোমরা শুল্ক স্টেশনে রাজস্ব শাখা সূত্রে জানা যায়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জন্য রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৯৪৬ কোটি ২৩ লাখ টাকা। এ হিসাব অনুযায়ী প্রথম ১০ মাসের অর্থাৎ জুলাই-এপ্রিল পর্যন্ত সময়কালের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭৯৮ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। এ সময় রাজস্ব আহরণ হয়েছে ৮৮৯ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে জুলাইয়ে ৮৬ কোটি ৭০ লাখ, আগস্টে ৯৩ কোটি ২০ লাখ, সেপ্টেম্বরে ৮৯ কোটি ৮৮ লাখ, অক্টোবরে ১২৭ কোটি ৮০ লাখ, নভেম্বরে ১২২ কোটি ৮১ লাখ, ডিসেম্বরে ৮৪ কোটি ৪৭ লাখ, জানুয়ারিতে ৭৫ কোটি ২৮ লাখ, ফেব্রুয়ারিতে ৭২ কোটি ১০ লাখ, মার্চে ৭৯ কোটি ৭৫ লাখ এবং সবশেষ এপ্রিলে ৫৭ কোটি ৫৮ লাখ টাকা আহরণ হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রা চেয়ে ৯০ কোটি ৮৩ লাখ টাকা বেশি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
অন্যদিকে, গত ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ভোমরা শুল্ক স্টেশন দিয়ে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮৫৩ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। এ লক্ষ্যমাত্রা সামনে রেখে গত অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে ৭৮৬ কোটি ১৮ লাখ টাকা আহরণ হয়। এ হিসাব অনুযায়ী চলতি অর্থবছরের একই সময়ে রাজস্ব আহরণ বেড়েছে ১০৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা।
ভোমরা স্থলবন্দর ব্যবহার করে সব ধরনের পণ্য আমদানি করতে পারলে রাজস্ব আহরণ কয়েক গুণ বেশি হতো বলে দাবি করেন সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ব্যবসায়ী অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আবু মুছা। তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘দেশের অন্য সব বন্দরের তুলনায় ভোমরা স্থলবন্দর ব্যবহারকারীরা চরম বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। কারণ এ বন্দর দিয়ে গুঁড়ো দুধ ব্যতীত সব ধরনের বৈধ পণ্য আমদানির অনুমতি থাকার পরও এখানকার ব্যবসায়ীরা নানা প্রতিবন্ধকতার শিকার হচ্ছেন।’
এদিকে রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধির বিষয়টি নিশ্চিত করে ভোমরা শুল্ক স্টেশনের দায়িত্বরত কাস্টমস ডেপুটি কমিশনার মো. শওকত হোসেন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘যেকোনো বন্দরের রাজস্ব আহরণের বিষয়টি মূলত পণ্য আমদানির ওপর নির্ভর করেন। তবে আমরা আমদানি-রফতানিতে ব্যবসায়ীদের সব ধরনের সেবা নিশ্চিত করে থাকি।’